দেশের খবর

ডুয়েটে আইসিএমএমপিই আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

 ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর উদ্যোগে ‘মেকানিক্যাল, ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্রোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিএমএমপিই-২০২৬)’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।  গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সটির আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।

 

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ডুয়েট ইতোমধ্যে গৌরব ও নানা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ গবেষকদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় নানামুখী পরিবর্তন আসবে। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবন জোরদার করা এবং সরকারি- বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিল্পখাতকে সমৃদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই কনফারেন্স অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

 

কনফারেন্সের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জয়নাল আবেদীন তাঁর বক্তব্যে প্রথম থেকে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ধারাবাহিক বিবর্তন তুলে ধরে বলেন, যন্ত্রকৌশল, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকৌশল শিল্প উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে সাইবার- ফিজিক্যাল সিস্টেম, ইন্টারনেট অব থিংস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় থ্রিডি প্রিন্টিং, স্মার্ট টেক্সটাইল, সবুজ রসায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের প্রাক্কালে এই কনফারেন্স ভবিষ্যতের জটিল প্রকৌশল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার বলেন, দুই দিনব্যাপী এই কনফারেন্সে এডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, টেকসই জ্বালানি ও নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তঃসহযোগিতা ও সমন্বিত গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলকে কেবল পেপারে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প ও সমাজের কল্যাণে ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাই গবেষণার পূর্ণতা, এমন মন্তব্য করেন তিনি।

 

কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে কী-নোট বক্তব্য প্রদান করেন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. সুং ইওন কাং এবং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রুইগ্যাং ওয়াং।

 

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন ও কনফারেন্স চেয়ার অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি কনফারেন্সটি সফল ভাবে আয়োজনের জন্য স্পন্সর প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় কনফারেন্স অরগানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাসান মো. মোস্তফা আফরোজ এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. এ এন এম মোমিনুল ইসলাম মুকুট উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে মোট ১৯৫টির বেশি টেকনিক্যাল পেপার, কী-নোট বক্তৃতা এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন উপস্থাপিত হয়। এর মধ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. রুইগ্যাং ওয়াং ও ডুয়েটের পিএইচডি গবেষক মনির হোসেন যৌথভাবে বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। কনফারেন্সে দেশের ও বিদেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 



সম্পর্কিত খবর